শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ত্রিশালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র পদে আমিন সরকারের বিজয় চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সোহেল গ্রেফতার ময়মনসিংহে ২ কেজি গাঁজাসহ একজন গ্রেফতার জাককানইবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফাহাদ, সম্পাদক আসলাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ জানুয়ারি আজ সন্ধ্যা ৭টায় সিইসির ভাষণের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আফ্রিকার প্রাণী নীলগাই, জেব্রা ও কমনইল্যান্ড পরিবারে যুক্ত হলো পাঁচ নতুন ত্রিশালের সাখুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রিফাত ও সম্পাদক রিজন জয়পুরহাটের কালাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত

ত্রিশা‌লে পরপর তিন খুন, ফাঁ‌সির দা‌বি‌তে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ম‌মিনুল ইসলাম ম‌মিন
  • আপডেট রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩২৩ দেখেছে

একই এলাকায় পরপর তিন খুন, আতঙ্কিত এলাকাবাসী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুনের বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের সহস্রাধিক লোক।

রবিবার দুপুরে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের খাগাটি গ্রামের ঈদগাহ বাজারে তিন খুনের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এ‌নে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়।

মানববন্ধনে এলাকার ভীতসন্ত্রস্ত নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের দূর্বিষহ জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মাস্টারকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের শেষ পরিণতি আবুল কালামকে হত্যা।

মানববন্ধনে বক্তারা জানায়, আগের হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে আসামিরা এক সাক্ষীর চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। সর্বশেষ খুন হওয়া আবুল কালাম (৫৮) উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার রাত (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালাম আজাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

নিহত আবুল কালামের সন্তানরা জানায়, আমাদের বাবা একজন নিরীহ মানুষ। আমাদের চাচাতো ভাইকে রাস্তায় আটকিয়ে জিলানী বাহিনী মারধর করে। আমার বাবা ফিরাইতে গেলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

কান্না ঝড়া কন্ঠে আবুল কালামের মেয়ে বলেন, জিলানীর কারণে আমরা ভাইবোনরা পিতৃহারা হয়েছি। তারা আমার বাবাকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। সরকারের কাছে আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানাই। আমরা যেভাবে পিতৃহারা হয়েছি আর যেন কেউ সন্ত্রাসীদের নৃশংসতায় এমনভাবে পিতৃহারা না হয়।

নিহতের ভাতিজা মো. সোহাগ মিয়া বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাস্টারকে হত্যা করে তোফাজ্জল হোসেনসহ অন্য আসামিরা। ওই মামলায় দপ্তরি রফিকুল ইসলাম সামনে থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে মতিন মাস্টার হত্যার বিচার দাবি করেন। এই ঘটনার জেরে মতিন মাস্টার হত্যার মামলার আসামির ভাই আব্দুল কাদির জিলানী ২০১৯ সালের মার্চ মাসে দপ্তরি রফিকুল ইসলামকে হত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, মতিন মাস্টার হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন আমার শ্বশুর। ওই সময় থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি দপ্তরি রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় আমাকে মারধর করে তোফাজ্জল হোসেন ও আব্দুল কাদির জিলানী।

ওই মারধরের ঘটনায় চাচা আবুল কালাম মামলা করেন। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল রাতে আমি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় তিনরাস্তার মোড়ে আসামিরা আমার ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে আমার চাচা ও ভাইয়েরা ছুটে আসলে আসামিরা আমার চাচা আবুল কালামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। আমরা আমাদের জীবনের নিরপত্তা চাই। আমার চাচা সহ সকল হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংক্রান্ত আরও খবর