তথ্যশীর্ষ খবরসর্বশেষসিলেট

সিলেট-মৌলভিবাজারে পরিবহন ধর্মঘটে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

শেরপুরে দুর্ঘটনায় সিকৃবি’র ছাত্র নিহতের ঘটনায় মৌলভীবাজার থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার ধারা পরিবর্তনসহ ৭ দফা দাবিতে সিলেটে চলছে সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট।

সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এ ধর্মঘটের কারণে সোমবার সকাল ৬টা থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সিলেট মৌলভিবাজারের সাধারণ যাত্রীরা। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি, সাধারণ যাত্রী পরিবহণগুলো চলাচলেও বাঁধা সৃষ্টি করছেন শ্রমিকরা। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সিলেটের।

যাত্রীরা ছাড়াও এ ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্নস্থানে পরীক্ষার্থী বহনকারী গাড়িও আটকে দেয় শ্রমিকরা।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- গত ২৩ মার্চ মৌলভীবাজার থানায় দুর্ঘটনা মামলা (নং-২২ (৩)১৯) থেকে দন্ডবিধি ৩০২ এর স্থলে ৩০৪ ধারা লাগাতে হবে। সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ১০৫ ধারায় জরিমানার পরিমান ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা করতে হবে, এই আইনে ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারাকে জামিনযোগ্য করতে হবে, এই আইনের ৮৪ ও ৯৮ পৃথক ধারা দু’টিতে জরিমানা ৩ লাখের স্থলে ৩০ হাজার করে করা, জটিল দুর্ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে ধারা নির্ধারণ এবং তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করা। এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় রিকুইজিশন করা যাবে না, রিকুইজিশনকালীন সময়ে চালকের খোরাকি ও গাড়ির জ্বালানী যথাযথভাবে প্রদান করতে হবে।

সড়ক-মহাসড়কে তল্লাসীর নামে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পুলিশী হয়রানী বন্ধ করতে হবে, মহাসড়কে রাত্রীকালীন ট্রাক তল্লাসী বন্ধ করা, জেলা যেকোনো নির্দিষ্টস্থানে গাড়ি তল্লাসীর ব্যবস্থা রাখতে হবে। কথায় কথায় সিএনজি অটোরিকশাকে রং পার্কিংয়ের নামে হয়রানী বন্ধ করা, রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ করা। রেকারিংয়ের নামে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সড়ক মহাসড়কে বিভিন্ন সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

এ ব্যপারে সিলেট বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন- বাস চালক ও হেলপারের গ্রেফতারে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সিকৃবি ছাত্র মারা যাওয়ার মামলায় ৩০২ ধারা যুক্ত করায় তারা এ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। এ ধারা বাতিলসহ সাত দফা দাবি তারা উপস্থাপন করেছেন। তারা এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চান।

  • সিলেট প্রতিনিধি রুম্মান আহমেদ

Comment here