জাতীয়তথ্যপরিবেশবাংলাদেশশীর্ষ খবরসর্বশেষসিলেট

মৌলভীবাজারে প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাট, ধানক্ষেত, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি-মাইদুল হাসান রিপনঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শুক্রবার (১৪ জুন) ভোর থেকে প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাটসহ ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জে ধলাই নদীসহ সব পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়েছে। এ ছাড়াও ঢলের পানিতে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামাড়া এলাকাতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বেড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক সড়ক নিমজ্জিত হয়েছে। আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত মানুষজন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুর থেকে কমলগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের আদমপুর-কমলগঞ্জ সড়কের পশ্চিম দিকের ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করে আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকছে।

আদমপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, ‘রাতের বৃষ্টির সঙ্গেই ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরনো ভাঙা এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা পানিতে তাদের জমির ধান তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী রওশন আরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধলাই নদীর ভাঙ্গনে গ্রামের পনের পরিবার নি:স্ব হয়ে গেছি। নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় স্রোতের পানি থাকার একমাত্র ঘরটি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এখন আমাদের থাকার মতো স্থায়ী কোন জায়গা নেই। আমাদের অসহায়ত্ব দেখার মতোও কেউ নেই। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো, কি খাবো কেউ খবর নেয় না।”

পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামে নদীর গ্রাস হওয়া বাড়িঘর ঘুরে দেখা যায়, নদীর স্রোত হোসেন আলীসহ গ্রামের পনেরটি ঘর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। আরও পাঁচটি রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। হোসেন আলীর পাকা ঘরের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। ঘরের অবশিষ্ট অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ঘোড়ামারা গ্রামের মজিদা বেগম, নুরুজ্জামান, সাজেদা বেগম ও আব্দুল গফুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পূর্বে যদি আমাদের এলাকায় নদীর বাঁধ মেরামত করা হতো তাহলে আর আমাদের এই ক্ষতি হতো না। কিছুদিন পূর্বে নদীর স্রোতে আমাদের ঘরগুলো নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। আমরা এতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি।

ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা মণিপুরী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা কবি ও নাট্যকার সুভাশীস সমীর ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা বলেন, আকস্মিক বন্যায় ফের কবলিত হয়েছে আমাদের ঘোড়ামারা গ্রাম। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আমাদের বাড়ির উঠান ডুবে গেছে। গ্রামের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ধলাই নদীতে গতবার যে বিরাট ভাঙন হয়েছিল, প্রলয়ঙ্করী বন্যা এসেছিল, একটিমাত্র পরিবারের বাঁধায় সেখানে আজো বাঁধ দেয়া সম্ভব হয়নি, স্থানীয় প্রশাসনও ব্যর্থ। মাত্র বর্ষার মৌসুম শুরু। এবার কয় দফা বন্যা হবে জানি না। এই গ্রামেই মণিপুরি থিয়েটার অডিটোরিয়াম (গতবার অনেক ক্ষতি হয়েছিল ভবনটির), মণ্ডপ, প্রাইমারি স্কুলসহ আরো অনেক কিছু রয়েছে। এবারও কি রেহাই পাবে না কোনটাই! তারা বিষয়টির অতি দ্রুত সমাধান ও নদীতে বাঁধ দেবার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

আদমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, আসলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছর কাজ করতে আসলেও কিছু মানুষের আপত্তির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বিগত ২০১৭ সনে বাঁধ মেরামতের জন্য জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয় সেখানে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। পরে বাধ্য হয়ে ঠিকাদার চলে আসেন। বর্তমানেও যদি জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং ঘরগুলো সরানো হয় তাহলে কাজ করা সম্ভব হবে।

Comment here