আন্তর্জাতিকজাতীয়প্রযুক্তিবাংলাদেশশীর্ষ খবরসর্বশেষ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুগলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ

সিলেট জেলা প্রতিনিধি- নাইমুল হকঃ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলে এখনও বাংলাদেশের অনেক মানুষ ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়েও অনেকে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের নামি-দামি কোম্পানি গুলোতে। তেমনি এক তরুণ পটুয়াখালীর সবুর আল জাহিদ। প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন গুগলে। বাড়ি পটুয়াখালী হলেও জাহিদের জন্ম সৌদি আরবে। ৮ বছর বয়সে স্ব পরিবারে দেশে ফিরেন তখন তিনি ভর্তি হন মণিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। তারপর ও-লেভেল শেষ করেন রাজধানীর অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে। মুখস্তবিদ্যায় দুর্বল হওয়ায় রোল পিছনের দিকে থাকলেও স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় তিনি বারবার ই প্রথম হতেন। শৈশবেই ইলেক্ট্রনিক্সের উপর বেশ আগ্রহ জন্মে তার। আনেকসময় পড়াশোনা বাদ দিয়ে অনেক সময় ধরে শুধু সার্কিটই বানিয়েছেন। ও -লেভেলে ইংরেজিতে কিছুটা খারাপ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির যোগ্যতা লাভ করতে পারেননি। যার ফলে ভর্তি হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সি.এস.সি ডিপার্টমেন্টে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হওয়ায় অনেকে ভালো চোখে দেখতেন না তাকে। একবার একজন বলেই ফেলল এই সার্টিফিকেট ত মুদি দোকানেই কিনতে পাওয়া যায়। মূলত সেখান থেকেই জেদ ধরেন যে জীবনে কিছু একটা করার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে থাকতেই অংশ নিতেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। অনার্স শেষ করেন আ.আই.ইউ.বি থেকে রেকর্ড সি.জি.পি.এ ৪.০০ নিয়ে। ৩য় সেমিস্টার থেকেই প্রোগ্রামিং প্রতি নেশা ধরে যায়। যার ফলে সমাধান করে ফেলেন প্রায় ১৩০০ প্রব্লেম। সে সময় স্পেনের ভ্যালডলিড বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রোগ্রামিং এ বিশ্বসেরা। তাদের লিস্টে সেরা ১৫তে উঠে আসেন তিনি। ২০০৭ সালে যোগ দেন গুগলে। ২০১৩ সালে যুক্ত হন গুগলের সার্চ টিমে। সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে জায়গায় করে নিয়েছেন গুগলের চিফ ২৫০ ইঞ্জিনিয়ার এর মধ্যে। তরুণদের উদ্দেশ্য জাহিদ বলেন, প্রথমে যে জিনিসটা দরকার তা হচ্ছে ইংরেজিতে ভাষাগত দক্ষতা। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ ও জরুরি। অন্যদিকে যে জিনিসটা খুব দরকারী তা হচ্ছে পরিশ্রম তাছাড়া নিজের কনফিডেন্স লেভেল হাই রাখা জরুরিও বলে মনে করেন তিনি।

Comment here