অর্থনীতিজাতীয়তথ্যবাংলাদেশশীর্ষ খবরসর্বশেষ

নতুন ভ্যাট আইনে বড় পরিবর্তন আসছে

নতুন মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইনে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১ জুলাই থেকে আইনটি বাস্তবায়ন করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেয়া হবে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সংযোজন করা হবে নতুন বিধান। এতে কিছু খাতে ভ্যাটের চাপ বাড়বে। পাশাপাশি চাপ কমবে অনেক খাতে।

যেমন টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো হচ্ছে, এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হলেও এর সঙ্গে ট্যাক্স হার বাড়ানো হচ্ছে। আবার ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে পেট্রোলিয়াম ও ওষুধের জন্য বিশেষ স্কিম করা হচ্ছে। আইনের এসব পরিবর্তন আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আনা হবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে টার্নওভার ট্যাক্স হারও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বাজেটে এ হার ১ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হবে। বর্তমানে এ হার ৩ শতাংশ। ফলে ৩ কোটি টাকার বেশি যাদের টার্নওভার রয়েছে তাদের ১ শতাংশ বেশি হারে ভ্যাট দিতে হবে। সাধারণত বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোরই ৩ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার রয়েছে।

এছাড়া ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। মূলত ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের অধীনে যারা প্যাকেজ ভ্যাট দিতেন, তাদের ছাড় দিতেই অব্যাহতির সীমা বাড়ানো হচ্ছে। এর আওতায় পড়ে বেশির ভাগ

ছোট ব্যবসায়ী। আগামী বাজেটেও ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগের চেয়ে আরও একটু বড় ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। ফলে পাড়া-মহল্লা, ফুটপাত বা ছোট ছোট মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট দিতে হবে না। আরও জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে বর্তমানে প্রচলিত ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা ওঠে যাবে। চালু হবে বাজারভিত্তিক ভ্যালু প্রথা। এর ফলে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়বে। বর্তমানে এলপি গ্যাসের প্রতি কেজির ট্যারিফ ভ্যালু আছে ৩ টাকা। অর্থাৎ এ ৩ টাকার ওপর ভোক্তাকে ভ্যাট দিতে হয়। এ প্রথা ওঠে গিয়ে বাজারভিত্তিক প্রথা চালু হলে এর প্রকৃত উৎপাদন খরচের ওপর ভ্যাট আরোপিত হবে। তখন এর ওপর ভোক্তাকে ভ্যাট দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই তখন ভ্যাটের পরিমাণ বাড়বে।

নতুন আইনে ব্যাটের হার ১৫ শতাংশ রাখা হলেও এটি পরিবর্তন করা হবে। তবে নতুন আইনে ভ্যাটের ইউনিক হার থাকবে ১৫ শতাংশই। এ হারে যারা ভ্যাট দেবেন বছর শেষে চূড়ান্ত হিসাবে বাড়তি ভ্যাট দিয়ে থাকলে তারা রিবেট পাবেন। ভ্যাটের অন্য হারগুলো হবে ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ ও ১০ শতাংশ। এ হারে যারা ভ্যাট দেবেন তারা কোনো রিবেট পাবেন না।

Comment here