শিরোনাম
ত্রিশালে জেলা তথ্য অফিসের মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাদক কারবারিদের হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ২ হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন কবি আসাদুজ্জামান প্রচলিত আইনকানুন দুর্নীতিকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেঃ ময়মনসিংহের আঞ্চলিক আলোচনা সভায় উদ্দ্যোক্তারা ত্রিশালে আবুল মনসুর আহমেদের জন্মবার্ষিকী পালিত কেতকীবাড়ি চান্দখানার রাস্তার বেহাল দশা দেখার কেউ নেই ছাত্র আন্দোলন আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা ফুলবাড়িয়ায় জাতীয় পার্টির নেতার স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল ভূঞাপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩জনকে কারাদণ্ড এবার নেত্রকোনায় ৩ নবজাতকের নাম রাখা হলো স্বপ্ন ,পদ্মা ও সেতু:

ত্রিশালে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ঘুষ বানিজ্য

  • আপডেট বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৪৭ দেখেছে

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঝিল্লুর রহমান আনম এর বিরুদ্ধে শিক্ষক এমপিওভুক্ত, শিক্ষক, গার্ড আয়া নিয়োগে ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ।

শিক্ষকদের এমপিও পেতে এই কর্মকর্তাকে ঘুষ না দিলে ফাইল পার হয় না । এমপিওভুক্তিতে ঘুষ দিতে অপরগতাকারী শিক্ষকরা এই অফিসারের হয়রানি শিকার হয়েও প্রতিবাদ করার সাহস পান না । স্থানীয় প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক দলের নেতার ডিও লেটারে ত্রিশালে আসায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেন না । তবে নতুন এমপিও পেতে গিয়ে উপজেলার প্রায় সকল শিক্ষককেই ঘুষ দিতে হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানিয়েছেন ।

জানা যায়, বিগত সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ ত্রিশালে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে যোগদান করেন জিল্লুর রহমান আনম । ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় বদলী করা হয় । সেখানে এক বছর থাকার পর একজন সাংসদের অদৃশ্য ছায়ায় ডিও লেটারে তিনি আবারও ত্রিশালে যোগদান করেন ।

জানা যায়, ইতিপূর্বে ত্রিশালের কিছু শিক্ষকদের এমপিরওর কাগজপত্র ত্রুটি বিচ্যুতি থাকায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে সেহিসাবে কাজপত্রাদি প্রেরণ করেন এই কর্মকর্তা । ঘুষ পাওয়ায় তন্মধ্যে ৫০ জনের ত্রুটি বিচ্যুত থাকার পরও এমপিওভূক্তি হয় । অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকদের নিকট থেকে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন । একইভাবে ২০১৯ সালে ৭০ জনের নিকট থেকেও একই কায়দায় কাগজপত্র ত্রুটি বিচ্যুতি থাকার পরও এমপিরভূক্ত করে মোটা টাকা কামিয়ে নেন । তার কাছে ঘুষ দিলেই এমপিও হয় । অভিযোগ রয়েছে, ত্রিশালের বলহরি দাখিল মাদ্রাসায় গার্ড ও আয়া নিয়োগে ১৮ লাখ টাকা লেনদেন হয় । এখান থেকেও তিনি হাতিয়ে নেন মোটা টাকা । একইভাবে নওয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় গার্ড ও আয়া নিয়োগে, রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ৈ আয়া নিয়োগে, জয়মনি উচ্চ বিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগে, বাগান উচ্চ বিদ্যালয়েপ্রধান শিক্ষক নিয়োগ । সলিমপুর দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগে টাকা না পাওয়া ফাইল ফাইল আটকে রেখেছেন এই কর্মকর্তা । অর্থাৎ এমপিওভূক্তি, নিয়োগ তদ্বির সবই তিনি করেন বীরদর্পে । আর এসব অনায়াসাইে করেন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী এক নেতার ইশারায় । এই নেতা ফাইল পাশ করলেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঝিল্লুর রহমান আলমের কাছে ফাইল পাশ হয় ।

জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান আলম জানান, ডিও লেটার দিয়ে আমাকে আমাকে আনা হয়েছে । তার কথা না শুনলে কাজ করতে পারবো না । তাই করতে বাধ্য হই । আপনারা সাংবাদিক । আপনারা তা জানেন । আমাকে ম্যানেজ করে চলতে হয় । উপজেলা প্রশাসনের আমার বিরুদ্ধে । তাই আমিও আর তাদের অফিসে যাই না । এনিয়ে রিপোর্ট করবেন না । করলে আমার ক্ষতি হবে । আমার চাকরি শেষ পর্যায়ে । জানা যায়, এই কর্মকর্তার বাড়ি পাশ্ববর্তী গফরগাঁও উপজেলায় ।

নাম প্রকাশে অনেক শিক্ষকই জানিয়েছে, ত্রিশালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কর্মকান্ড অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এমপিওর সঙ্গে যেন ঘুষ, দুর্নীতি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সংক্রান্ত আরও খবর

ফেইসবুক পেজ

error: Content is protected !!