জাতীয়তথ্যবাংলাদেশশীর্ষ খবরসর্বশেষ

জাতীয় পরিচয়পত্র ভুল থাকলে,হারালে, অথবা নতুন করতে গেলে করণীয়

জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেলে, ভুল থাকলে, বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি থাকলে অথবা নতুন পরিচয়পত্র করতে গেলে কি করতে হবে? আবার যারা নতুন পরিচয়পত্র করতে চান তারাও এ বিষয়ে অনেকে অজ্ঞ। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য নিম্ন বর্নিত কিছু পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।

নাম সংশোধনঃ পরিচয়পত্রে থাকা নিজের নাম, পিতা, স্বামী কিংবা মাতার নাম সংশোধন করতে চাইলে নির্দৃষ্ট ছক মোতাবেক আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে:

১. এসএসসি বা সমমান সনদ ২. নাগরিকত্ব সনদ ৩. জন্মনিবন্ধন সনদ ৪. চাকরির প্রমাণপত্র ৫. পাসপোর্ট ৬. নিকাহনামা
৭. পিতা, স্বামী কিংবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি৷ তবে, আবেদনপত্রে সংযুক্ত এসব নথি সত্যায়িত হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম, চাকরি না করলে, পাসপোর্ট না থাকলে সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে না।

নাম পরিবর্তনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম বদল করতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে:
১. এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত ফটোকপি ২. বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ৩. ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ৪. জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের কপি। তবে, নাম পরিবর্তনের জন্য প্রার্থীকে শুনানির দিন প্রকল্পের কার্যালয়ে কাগজপত্রের মূল কপিসহ হাজির হতে হবে।

জন্মতারিখ সংশোধনঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমানের আবেদনপত্রের সঙ্গে এসএসসি সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে৷ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি কম হলে:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগের তারিখে পাওয়া সার্ভিস বুক বা এমপিওর কপি ২. ড্রাইভিং লাইসেন্স ৩. জন্ম সদন ৪. নিকাহনামা ৪. পাসপোর্টের কপি৷ তবে এ ক্ষেত্রে প্রকল্প কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রকল্প পরিচালক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দরকার হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।

পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তনঃ পিতা বা মাতার নাম পরিবর্তন কিংবা আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে:
১. এসএসসি বা এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ/ রেজিস্ট্রেশন কার্ড ২. পিতা বা মাতার পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি৷ তবে, পিতা বা মাতা বা উভয়ে মৃত হলে ভাই বা বোনের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। তবে, পিতা-মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিতে পারেন।

ঠিকানা সংশোধনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা বর্তমান ঠিকানা ও ভোটার এলাকা বদল ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় করার সুযোগ আছে। তবে সারা বছর সেই সুযোগ মেলে না। ভোটার এলাকা বদল করতে হলে নতুন ঠিকানার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে দেওয়া ফরম-১৩ অথবা ফরম-১৪ পূরণ করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না করে সংশোধন করার সুযোগ ঢাকার প্রকল্প কার্যালয়ে রয়েছে।এ ছাড়া স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন বা এর কোনো তথ্য সংশোধনেরও সুযোগ আছে।

ঠিকানার ছোটখাটো ভুল সংশোধন বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ সারা বছরই থাকে। এ জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের পরিচয়পত্রের কপি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন বিলের যেকোনো একটির কপি বা কর দেওয়ার কপি, চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র।

স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওই ঠিকানায় নিজের নামে বা পিতা বা মাতার নামে থাকা জমি বা ফ্ল্যাটের দলিলের সত্যায়িত ফটোকপিও জমা দিতে হবে।

স্বামীর নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়াঃ বিয়ের পর কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত এবং বিবাহবিচ্ছেদের কারণে স্বামীর নাম বাদ দিতে চাইলে কাবিননামা ও স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং তালাকনামার সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে৷

রক্তের গ্রুপ সংশোধনঃ রক্তের গ্রুপ সংশোধন করতে হলে মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

হালনাগাদ কর্মসূচির পরিচয়পত্র সংশোধনঃ ২০১৯ সালে হালনাগাদ কর্মসূচির সময় যাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে তাদের পরবর্তিতে প্রকল্প কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলেঃ পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে:
১. সংশ্লিষ্ট থানায় ভোটার নম্বর বা আইডি নম্বর উল্লেখ করে জিডি করতে হবে, ২. জিডির মূল কপিসহ প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া ছকের আবেদনপত্র নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিতে হবে, ৩. প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

বিবিধ সংশোধনঃ জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো নামের আগে পদবি, উপাধি, খেতাব ইত্যাদি সংযুক্ত করা যাবে না। পিতা বা স্বামী বা মাতাকে মৃত হলে মৃত্যুর সনদ দাখিল করতে হবে। জীবিত পিতা বা স্বামী বা মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্রের কপি দাখিল করতে হবে।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলেঃ বাংলাদেশে কারও বয়স ১৮ বছর হলেই কেবল তিনি ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারবেন। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে তাদেরই, যাদের চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কাজের জন্য বিদেশে যেতে হবে তাদের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

যারা এখনো পরিচয়পত্র ওঠাননিঃ ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর থানা ছাড়া) পরিচয়পত্রের জন্য সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু সেটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে আর আনেননি, তারা প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে মূল প্রাপ্তি রসিদ জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

ডিসিসির বাইরে ঢাকা জেলার অন্যান্য উপজেলা বা থানার বাসিন্দা কিংবা দেশের অন্য কোনো জেলার বাসিন্দারা নির্দিষ্ট সময়ে পরিচয়পত্র না উঠিয়ে থাকলে, প্রাপ্তি রসিদ সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মন্তব্যসহ প্রাপ্তি রসিদ জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তাঁদের মূল প্রাপ্তি রসিদ প্রকল্প কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র গ্রহণ করতে হবে।

যোগাযোগঃ

ভোটার তালিকাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে যোগাযোগ করতে হবে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলার কার্যালয়ে।

Comment here