অর্থনীতিজাতীয়বাংলাদেশব্যবসাশীর্ষ খবরসর্বশেষ

অর্থনৈতিক স্থিতি ধরে রাখতে চার নীতিতে নজর

দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চারটি নীতি অনুসরণ করার প্রস্তাব করেছে সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল। এগুলো হল- অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি এবং সহনীয় রাজস্বনীতি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপলক্ষে তৈরি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সমন্বিতভাবে এই চার নীতি প্রয়োগ করলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাও ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে বাজেট বাস্তবায়ন খাতে নেয়া সংস্কার কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এর জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, আইনি কাঠামো সহজ করা, বেসরকারি খাতবান্ধব নীতি গ্রহণ করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে ৭ শতাংশের ঘরে পৌঁছে। চার বছরের মধ্যেই প্রবৃদ্ধির হার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৭ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে ৮ শতাংশের ঘরে পা রাখতে সক্ষম হয়।

আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির এই উচ্চ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য বাড়াতে হবে বাজারের চাহিদা। সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে। উৎপাদন বাড়লে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে। আর কর্মসংস্থান বাড়লে বাড়বে মানুষের আয়। আয় বাড়লে বাড়বে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ালে পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এভাবে অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হবে। এই ধারা বজায় রাখা সম্ভব হলে উৎপাদন বিনিয়োগ বাড়বে। এ চক্র ধরে রাখতে পারলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ধরে রাখা সম্ভব হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। তবে টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রবৃদ্ধির উপকরণগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী বাজেটে করের হার বাড়বে না। তবে করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

Comment here